তবে এ সময় জাপানি ইয়েনের মান ডলারের বিপরীতে ১৬০-এর কাছাকাছি অবস্থান করেছে। মূলত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া সবশেষ সময়সীমার দিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সম্প্রতি। তিনি জানান, পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আজ (স্থানীয় সময়) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে না দেয়া হলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুগুলোয় হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময়সীমা মঙ্গলবার পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। খবর রয়টার্স
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে জলপথটি বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন আকাশচুম্বী। ফলে বিশ্বজুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে।
সিঙ্গাপুরের স্যাক্সো ব্যাংকের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ চারু চানানা বলেন, ‘ট্রাম্পের ঘনঘন আলটিমেটাম বাজারের জন্য নেতিবাচক। কারণ এতে সংকট দীর্ঘস্থায়ী ও সামষ্টিক অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে।’
অন্যদিকে টিডি সিকিউরিটিজের জ্যেষ্ঠ কৌশলী প্রশান্ত নিউনাহা জানান, গত মঙ্গলবার নাগাদ প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেয়া হলে তেলের দাম দ্রুত কমবে এবং বিনিয়োগের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি আক্রমণাত্মক হয়, তবে বিশ্ববাজার বড় ধরনের অস্থিরতার মুখে পড়বে।
গতকাল এশিয়া ও ইউরোপের বেশির ভাগ বাজার ছুটির কারণে বন্ধ থাকায় লেনদেন ছিল সীমিত। এ সময় ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের সূচক সামান্য কমে ১০০ দশমিক ১২-এ অবস্থান করেছে।
এদিকে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থবিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির (স্ট্যাগফ্লেশন) ঝুঁকির কারণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর পূর্বাভাসও বদলে যাচ্ছে। বছরের শুরুতে ২০২৬ সালে দুটি সুদহার কমানোর প্রত্যাশা থাকলেও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন ২০২৭ সালের দ্বিতীয় ভাগের আগে ফেড থেকে কোনো বড় পদক্ষেপ আশা করছেন না।